ভবা পাগলা : পরমে পরম জানিয়া


Bhoba pagla
ভবেন্দ্র মোহন সাহা। সাধক নাম– ভবা পাগলা। গানের ভণিতায় তিনি নিজেকে ভবা বা ভবেণ বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর ভক্তদের দাবি, এখনও পর্যন্ত ভবা পাগলার ২৫ হাজার গানের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।
শ্যামা সঙ্গীত, ভাব গান, গুরুতত্ত্বের গান, দেহতত্ত্বের গান ও সৃষ্টিতত্ত্বের গান রচনা এবং সুর করে গেয়েছেন ভবা। আজও তাঁর গান বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে গীত হয়ে আসছে।

জন্ম আনুমানিক ১৮৯৭ খৃস্টাব্দে। পিতার নাম গজেন্দ্র কুমার সাহা। সাধক ভবা পাগলারা ছিলেন তিন ভাই এক বোন। ১৯৪৭ এর দেশভাগের পর তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের ধমরাইয়ের আমতা গ্রাম ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের কালনায় চলে যান তিনি। বহু মানুষের মত ৪৭ তাঁকেও গ্রাম ছাড়া করেছে।
১৯৫১ সালে পশ্চিমবঙ্গের কালনার জাপট গ্রামে ভবানী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভবা পাগলা। মন্দির প্রতিষ্ঠা করার পরেই বৈশাখের শেষ শনিবার বিশেষ উৎসব শুরু করেছিলেন তিনি। তারপর থেকে প্রতি বছরই বৈশাখ মাসের শেষ শনিবার  উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ভবানী মন্দিরে। ১৯৮৪ খৃস্টাব্দে ভূলোক ত্যাগ করেন কালি সাধক ভবা পাগলা।


সাজায়েছি ফুলের ঢালা, মাগো মালা গাঁথি নাই
ধূপ জ্বেলেছি মন্দিরে মাগো, দ্বীপ জ্বালি নাই (...)
ভবা হাসে নয়ন জলে, কেউ দিল না প্রদীপ জ্বেলেআমার সঙ্গের সাথী সব গেল চলে, দেবতাও দিল না ঠাঁইমা গো দ্বীপ জ্বালি নাই




দুই.
ভবা পাগলার প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে তন্ত্র সাধন যেমন প্রাসঙ্গিক, একইভাবে ৪৭ সালের কথা অপ্রাসঙ্গিক নয়। 
ইতিহাসের ওই সময়কার ছিদ্র দিয়ে বঙ্গবাসীকে নিজের অবয়ব চিনতে বার বার তাকাতেই হবে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ যেমন সুযোগ নিয়েছে, স্থানীয় উৎপীড়কও সুযোগ নিয়েছে ভবাকে মায়ের মন্দির ত্যাগ করে দেশান্তরি করার।




ভবা পাগলার পদঃ

বৃন্দাবনের পথে যাব
পথ দেখাবে কে
কেকা রবে ময়ূর ডাকে
ওইদিকে কি এইদিকে
শ্যামসুন্দর মদনমোহন
বাঁশির সুরে ধন্য ভুবন
ওরে আামর বোধিস্রবন
অন্ধ নয়ন খোদাই কাকে
শ্যামসোহাগী হাতে আমার
কৃষ্ণ নাম চিত্তে ঝংকার
নীল যমুনার এপাড় ওপাড়
দেখো কত মধুর ছবি আঁকে
কবে শুনব আকাশবাণী
আমায় কৃপা করবেন রাধারানী
শূন্য পথে কৃষ্ণ ধ্বনি
নূপূর ধ্বনি বাজবে বুকে
ময়ূর পাখি পেখম তুলে
নাচে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে
বলি আয়রে ভবা আয়রে চলে
বলে আয় তোর শ্যামা মাকে

[বৃন্দাবনের পথে যাব পদটি শুনতে https://goo.gl/xw8xBT এই লিংকে প্রবেশ করুন। রেকর্ডটিতে ধারণ করা কণ্ঠ ভবার নয় বলে ধারণা করি। প্রথম গানটির পরের পদ গেয়েছেন গৌরক্ষেপা। তাঁর সঙ্গে কণ্ঠে সংগত করেছেন আরো একজন।)


ঢাকা গাবতলী থেকে সরাসরি সাটুরিয়ার বাস পাওয়া যায়। অথবা ধামরাই বাসস্ট্যান্ড থেকে সাটুরিয়া আসতে হবে। সাটুরিয়া থেকে সিএনজি কিংবা রিক্সাভ্যানে করে আমতা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের উত্তর-পূব পাশে ভবা পাগলার আশ্রম অবস্থিত।

Comments