ভারতের সেচ বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারেরা ‘ইডিয়ট’ — বিমান বিহারী মাইতি
কখনও চার কোটি লোকের পানীয় জল কেড়ে নেবার জন্য বাঁধ বানাও, তো কখনও আবার চার কোটি লোকেকে পানীয় জল জোগাবার ভান করে বাঁধ বানাও।*
— অরুন্ধতী রায়, জনগণের বৃহত্তর মঙ্গল
*উল্লিখিত বাক্যের প্রথম ‘চার কোটি মানুষ’ (বর্তমানে কত?) বাংলাদেশের এবং বাঁধটির নাম ফারাক্কা, দ্বিতীয় ‘চার কোটি মানুষ’ গুজরাটের এবং বাঁধটির নাম নর্মদা।
— অরুন্ধতী রায়, জনগণের বৃহত্তর মঙ্গল
*উল্লিখিত বাক্যের প্রথম ‘চার কোটি মানুষ’ (বর্তমানে কত?) বাংলাদেশের এবং বাঁধটির নাম ফারাক্কা, দ্বিতীয় ‘চার কোটি মানুষ’ গুজরাটের এবং বাঁধটির নাম নর্মদা।
এবং এই বাঁধ প্রকল্পগুলি নিয়ে যেন কোন গবেষণা না হয়, সে জন্য বাঁধ ‘রূপায়ন উত্তর গবেষণা’ নিষেধ করে রাখা হয়েছে। ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে কোনও ছাত্রকে তাই কোনও রূপায়িত-প্রকল্পের উপর গবেষণা করে ডক্টরেট করতে দেওয়া হয় না। এ ব্যাপারে খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিষেধমূলক লিখিত ‘ডাইরেক্টিভ’ রয়েছে।*
— কলিম খান, ঝর্ণাধারা থেকে সৃষ্টিধারা
*শ্রী বিমান বিহারী মাইতি, যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অত্যন্ত গুণী ছাত্র, পাশ করার পর গিয়েছিলেন সেচ বিভাগের কাজ করতে। তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং বিধি-বহির্ভূত কাজ করে চলছে ভারতের সেচ বিভাগ। ব্যাপারগুলি গভীরে অনুপ্রবেশ করে সারাদেশকে প্রতিবছর খরা-বন্যায় দুর্দশাগ্রস্ত করে রাখার বিশাল ষড়যন্ত্র, তিনি দেখতে পান। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপর হল, সে সবই জেনেশুনে ভেবেচিন্তে করা। তাকে চাকুরি থেকে তাড়িয়ে, নানান আইনের ফাঁসে ফেলেও দমানো যায় না। শেষমেষ ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে রূপায়িত প্রকল্পের উপর ডক্টরেট করতে চাইলে উপরোক্ত তথ্যটি জানতে পারেন এবং ‘থ’ বনে যান। খোঁজ নিয়ে তিনি দেখেন সকল ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতেই ওই ডাইরেক্টিভ বলবৎ আছে। ইতিপূর্বে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতিকে জানান যে, আপনার সেচ বিভাগের নিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ারেরা ‘ইডিয়ট’, কারণ তারা ইঞ্জিনিয়ারিং বিধি জানে না। সে চিঠির কপি সর্বত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি উত্তর দেন না। সেচ বিভাবের ইঞ্জিনিয়ারেরা মানহানির মামলা করেন। আদালত রায় দেয়, শ্রী বিমানবিহারী মাইতি যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপিত করেছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে বিষয়টি অ্যাকাডেমিক। অতএব আদালত বলতে পারছেন না, ভারতের সেচ বিভাগের সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারগণ ‘ইডিয়ট’ কি না। পশ্চিমবঙ্গের অ্যাসেমব্লিতে সেচ বিভাগের এই কীর্তির বিষয়ে অতঃপর এম এল এ ড. ওমর আলি প্রশ্ন তোলেন। সে প্রশ্ন আজও অনুত্তরিত আছে। ...একা একা ওই অচলায়তের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে শ্রী মাইতির জীবনটাই বলতে গেলে খরচ হয়ে গেল।
— কলিম খান, ঝর্ণাধারা থেকে সৃষ্টিধারা
*শ্রী বিমান বিহারী মাইতি, যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অত্যন্ত গুণী ছাত্র, পাশ করার পর গিয়েছিলেন সেচ বিভাগের কাজ করতে। তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং বিধি-বহির্ভূত কাজ করে চলছে ভারতের সেচ বিভাগ। ব্যাপারগুলি গভীরে অনুপ্রবেশ করে সারাদেশকে প্রতিবছর খরা-বন্যায় দুর্দশাগ্রস্ত করে রাখার বিশাল ষড়যন্ত্র, তিনি দেখতে পান। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপর হল, সে সবই জেনেশুনে ভেবেচিন্তে করা। তাকে চাকুরি থেকে তাড়িয়ে, নানান আইনের ফাঁসে ফেলেও দমানো যায় না। শেষমেষ ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে রূপায়িত প্রকল্পের উপর ডক্টরেট করতে চাইলে উপরোক্ত তথ্যটি জানতে পারেন এবং ‘থ’ বনে যান। খোঁজ নিয়ে তিনি দেখেন সকল ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতেই ওই ডাইরেক্টিভ বলবৎ আছে। ইতিপূর্বে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতিকে জানান যে, আপনার সেচ বিভাগের নিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ারেরা ‘ইডিয়ট’, কারণ তারা ইঞ্জিনিয়ারিং বিধি জানে না। সে চিঠির কপি সর্বত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি উত্তর দেন না। সেচ বিভাবের ইঞ্জিনিয়ারেরা মানহানির মামলা করেন। আদালত রায় দেয়, শ্রী বিমানবিহারী মাইতি যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপিত করেছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে বিষয়টি অ্যাকাডেমিক। অতএব আদালত বলতে পারছেন না, ভারতের সেচ বিভাগের সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারগণ ‘ইডিয়ট’ কি না। পশ্চিমবঙ্গের অ্যাসেমব্লিতে সেচ বিভাগের এই কীর্তির বিষয়ে অতঃপর এম এল এ ড. ওমর আলি প্রশ্ন তোলেন। সে প্রশ্ন আজও অনুত্তরিত আছে। ...একা একা ওই অচলায়তের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে শ্রী মাইতির জীবনটাই বলতে গেলে খরচ হয়ে গেল।
কলিম খানের ঝর্ণাধারা থেকে সৃষ্টিধারা প্রবন্ধ থেকে তথ্যগুলো পাওয়া।
Comments
Post a Comment