পুরুষপ্রকৃতি
শিব এবং শক্তি এক। পুরুষ এবং প্রকৃতি এক। শিব কখনও হতে পারেন না শক্তিহীন, শক্তিও হতে পারেন না কখনও শিবহীন। এই জন্যই, যখনই কোন মাতৃমূর্তির পাশে শিব বিরাজ করেন ভৈরব হয়ে, তখনই তা অধ্যত্ম-সত্য।…
শিব যখন আত্মস্থ, তখন তিনি শিব, কিন্তু যখন সপ্রকাশ, তখন তিনি শক্তি। বিশ্বপ্রকৃতি শিবের প্রকাশ। তাই প্রকৃতি না থাকলে লীলা বন্ধ। ব্রহ্মের ক্রিয়ারূপ ‘বিষ্ণু এবং ব্রহ্মা’ শিবকে তাই উদ্বোধিত করেন পাণি গ্রহন করতে অর্থাৎ নিজেকে করতে প্রকাশ।
যদি পুরাণ কাহিনীকে কাহিনী হিসাবে ভাবেন সত্য তাহলে বিরাট ভুল করবেন নিজে এবং অজ্ঞানতার পাপে ডুববেন ধীরে ধীরে। আপনার অধ্যাত্ম উদ্দেশ্য হবে না সফল যদি না কাহিনীর স্থুল অযথার্থতা বুঝতে পেরে অনুধাবন করেন তার অধ্যাত্মতা। সুতারাং শিব-সতীর গল্প কাহিনীকে পাঠ করতে গিয়ে পুরুষ ও প্রকৃতি-তত্ত্ব মনে রাখতে হবে আপনাকে। (পৃঃ১২৯)
— নিগূঢ়ানন্দ, মহাতীর্থ একান্নপীঠের সন্ধানে
রাজ রামমোহন রায় লাইব্রেরী ফাউন্ডেশন সম্পাদিত, প্রথম প্রকাশঃ মহালয়া ১৩৬৫ বঙ্গাব্দ, দ্বিতীয় সংস্করণ ফাল্গুন, ১৩৬৬ বঙ্গাব্দ, প্রকাশক সত্যেন্দু চ্যাটাির্জী, শরৎ পাবলিশিং হাউজ, কলিকাতা।

Comments
Post a Comment